মারণখেলার টাইমলাইন: করোনায় “খরচযোগ্য” গার্মেন্ট শ্রমিক

মারণখেলার টাইমলাইন : করোনায় “খরচযোগ্য” গার্মেন্ট শ্রমিক

২১ মার্চ ২০২০: 

জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতিকে সাথে নিয়ে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর সভাপতি ও নেতাদের সাথে এক রুদ্ধদার বৈঠকে বসেন শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুন্নুজান সুফিয়ান, বাণিজ্য সচিব ও শ্রম সচিব। সেই সভায় শ্রমিক লীগের সভাপতি ও গার্মেন্ট মালিকদের নেতারা কারখানা খোলা রাখার পক্ষে মত দেন। শুধু তাই নয়, মালিকদের মূল আগ্রহ ছিল সরকারের কাছ থেকে আর্থিক অনুদান বা প্রণোদনা আদায় করার দিকে (প্রথম আলো, ৬ এপ্রিল ২০২০)। ওই সভায় শ্রম প্রতিমন্ত্রী জানান, মিল কারখানা বন্ধ করতে হবে সেটা যেন কারও মাথায় না ঢোকে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের বাইরে কোন সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে না। সভা শেষে বিকেএমইএর সভাপতি ও সাংসদ সেলিম ওসমান বলেন মালিকদের কারখানা বন্ধের কথা চিন্তা করা ঠিক হবে না। বিজিএমইএর সভাপতি রুবানা হক ক্রয়াদেশ হারানোর কথা উল্লেখ করে বলেন, শ্রমিকদের বেতন দেয়ার ক্ষেত্রে মালিকদের সক্ষমতা বিবেচনা করতে হবে। কারখানা বন্ধ করার সক্ষমতা অনেকের নেই (যুগান্তর, প্রিন্ট সংস্করণ, ২২ মার্চ ২০২০)।

২২ মার্চ ২০২০:

শ্রম প্রতিমন্ত্রীর সাথে ২১ শ্রমিক সংগঠনের বৈঠকে ৯টি সংগঠন সবেতন ছুটিতে কারাখানা বন্ধের দাবী করলেও শ্রম মন্ত্রণালয় থেকে জানিয়ে দেয়া হয় যে কারখানা বন্ধের কোন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি (বাংলা ট্রিবিউন, ২২ মার্চ ২০২০) ।

২৩ মার্চ ২০২০:

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমেদ কায়কাউস জানিয়ে দেন যে গার্মেন্টস বন্ধের সিদ্ধান্ত নেবেন মালিকেরা (যুগান্তর, অনলাইন সংস্করণ, ২৩ মার্চ ২০২০)।

২৩ মার্চ ২০২০:

গার্মেন্ট কারখানাকে আওতার বাইরে রেখে সাধারণ ছুটির কথা ঘোষণা করে সরকার। এদিকে পরবর্তীতে প্রথম আলোর খবর থেকে জানা যায় যে পোশাক শিল্প মালিকেরা আসলে কারখানা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত দিতে চাননি। তারা চেয়েছিলেন সরকারের ওপর মহল থেকে ঘোষণা আসুক। তাতে যে মালিকদের দাবীদাওয়া আদায়ে সুবিধা হবে এমন ইঙ্গিতও দেন কেউ কেউ। একারণে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ ২৩ মার্চ সাধারণ ছুটি ঘোষণার সময় চুপ ছিল (প্রথম আলো, ৬ এপ্রিল ২০২০)।

২৩ মার্চ ২০২০:

বিজিএমইএর সভাপতি রুবানা হক ভিডিও বার্তায় আবির্ভূত হন। সেখানে তিনি বলেন, ‘এ অবস্থায় ধৈর্য হারালে হবে না। ২৫ মার্চ প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন। সবাই তার ভাষণের জন্য আপেক্ষা করি। আতঙ্কিত হওয়ার জায়গা নেই। শ্রমিকদের যখন বেতনের সময় আসবে তখন তারা বেতন পাবেন। কেউ ভয় পাবেন না। ভরসা রাখুন। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় আমাদের আশ্বস্ত করেছে, তারা আমাদের পাশে আছে। অন্তত প্রধানমন্ত্রীর ওপর এটুকু ভরসা রাখুন, শুধু গার্মেন্টের ৪১ লাখ শ্রমিকের দিকে নয়, উনি সব শ্রমিকের দিকে তাকিয়ে আছেন। যতদিন উনি পাশে আছেন, আমরা কেউ পানিতে পড়ব না। বিদেশি ব্র্যান্ডকে আবেদন জানাই, তারা যেন বানানো মালগুলো নেয়। অন্তত চলার জায়গা তৈরি করুন। না হলে আগামী ৬ মাসে বড়, মাঝারি ও ছোট সব কারখানা বসে যাবে।’ সংবাদকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনাদের তাৎক্ষণিক একটি হেডলাইন, স্ক্রল এ মুহূর্তে পোশাক শিল্পের জীবন বদলে দিতে পারে। যদি কোনো ধরনের আতঙ্ক সৃষ্টি হয়, না শ্রমিক ভাই-বোনরা উপকৃত হবে, না বিজিএমইএ উপকৃত হবে, না শিল্প উপকৃত হবে, না সরকার উপকৃত হবে। শ্রমিক বেতনের সময় তার বেতন পাবে। এটি মনে রেখে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ান।’ (যুগান্তর, ২৪ মার্চ ২০২০, প্রিন্ট সংস্করণ)।

২৪ মার্চ ২০২০

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারী করা সাধারণ ছুটির প্রজ্ঞাপনে বলা হয় প্রয়োজনে রপ্তানীমুখী শিল্পকারখানা চালু রাখা যাবে (প্রজ্ঞাপন নং ০৫.০০.০০০০.১৭৩.০৮.০১৪.০৭-৭২)

২৪ মার্চ ২০২০:

গাজীপুরের ঝর্না নিটওয়্যার লিমিটেড এর ছাঁটাইকৃত শ্রমিকেরা কারখানার মালিকের উত্তরার বাসার সামনে অবস্থান নেন। কারণ আগের দিন এক নোটিশে করোনার অযুহাত দেখিয়ে তাদের জানানো হয় যে আগামী ১০ এপ্রিলের আগে তাদের বকেয়া বেতন দেয়া হবে না।

২৪ মার্চ ২০২০:

ঢাকা থেকে বাড়িমুখী মানুষের স্রোতের প্রেক্ষিতে সড়ক, রেল ও নৌ যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় সরকার। মানুষের খাবারের ব্যবস্থা না করে, সকল যোগাযোগ বন্ধ না করে এহেন সাধারণ ছুটি ঘোষণার পরিণতি যে এমন হবে সেটা অনুমান করাটা কঠিন কিছু ছিল না। কিন্তু তারপরও সরকার কোন ব্যবস্থা আগে থেকে নেয়নি। যেসব শ্রমিক ঢাকা ছাড়লেন তারা ঢাকা ছাড়লেন এক বিশাল অনিশ্চয়তা নিয়ে। বেতন হয়নি। কিভাবে চলবেন সামনের কয় মাস তারা জানতেন না।

২৫ মার্চ ২০২০:

প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে রফতানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের বেতন দিতে ৫০০০ কোটি টাকার প্যাকেজ ঘোষণা করেন। কিন্তু কারখানা বন্ধের ব্যাপারে কোন সুস্পষ্ট বক্তব্য দেয়া থেকে বিরত থাকেন। বেতন দেয়ার বোঝাটা সরকারের মাধ্যমে জনগণের ঘাড়ে চাপার পর গার্মেন্টস মালিকদের দুই সংগঠন তাৎক্ষণিকভাবেই এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানায়। তবে এদিন মালিকদের পক্ষ থেকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি এও জানানো হয় যে “আরো বড়” প্যাকেজ দরকার।

২৫ মার্চ ২০২০:

প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত প্যাকেজের প্রতিক্রিয়ায় রুবানা হক এদিন বলেন, বিজিএমইএর কারখানা বন্ধ বা খোলা রাখার এখতিয়ার নেই। এটি সরকারের সিদ্ধান্ত, এ অবস্থায় কারখানা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি(যুগান্তর, ২৬ মার্চ ২০২০, প্রিন্ট সংস্করণ)।

২৬ মার্চ ২০২০:

সরকারী ছুটির সাথে সামঞ্জস্য রেখে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত কারখানা বন্ধ রাখার “আহ্বান” জানায় বিজিএমইএ। এদিন রুবানা হক জানান, মার্চের বেতন মালিকরা দেবেন। এপ্রিলের বেতন প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত প্রণোদনা থেকে দেয়া হবে। তবে এদিন থেকে টেক্সটাইল মিল বন্ধ রাখার ঘোষনা দেয় বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস এসোসিয়েশন (বিটিএমইএ)।

২৭ মার্চ ২০২০:

৪ এপ্রিল পর্যন্ত কারখানা বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয় বিকেএমইএ।

২৭ মার্চ ২০২০: 

কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতর (ডিআইএফই) নির্দেশনা জারী করে যে যেহেতু প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে কলকারখানা বন্ধের কোন নির্দেশনা ছিল না তাই শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করে কারখানা খোলা রাখা যাবে। তারা জানায় যে যেসব কারখানায় ক্রয় আদেশ রয়েছে এবং যারা পিপিই, মাস্ক, স্যানিটাইজার ইত্যাদি করোনা প্রতিরোধী সামগ্রী উৎপাদন করছে সেসব কারখানা বন্ধ করার বিষয়ে সরকার কোন নির্দেশনা দেয়নি(যুগান্তর, ২৮ মার্চ ২০২০, প্রিন্ট সংস্করণ)।

১ এপ্রিল ২০২০:

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারী করে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি বর্ধিত করলেও এবারও বলা হয় প্রয়োজনে রপ্তানীমুখী শিল্পকারখানা চালু রাখা যাবে (প্রজ্ঞাপন নং ০৫.০০.০০০০.১৭৩.০৮.০১৪.০৭-৭৫)

১ এপ্রিল ২০২০: 

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর নেতাদের সাথে সভা শেষে বলেন যে পোশাক কারখানা চলতে বাধা নেই। তবে স্বাস্থ্য বিধি মানতে হবে। সভায় ৫ এপ্রিল কারখানা খোলার ব্যাপারেও গুরুত্ব দেয়া হয়। (প্রথম আলো, ৬ এপ্রিল ২০২০)

১ এপ্রিল ২০২০:

কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর আরেকটি বিজ্ঞপ্তি দেয় তাতে তারা তাদের আগের নির্দেশনাগুলোই তুলে ধরে (প্রথম আলো, ৬ এপ্রিল ২০২০)।

২ এপ্রিল ২০২০:

প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে যে ৩১ দফা নির্দেশনা আসে সেখানে ২৯ নম্বর নির্দেশনাটি ছিল: শিল্প মালিকরা শ্রমিকদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে নিজেদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করে উৎপাদন অব্যাহত রাখবেন (যুগান্তর, ৩ এপ্রিল ২০২০, প্রিন্ট সংস্করণ)।

২ এপ্রিল ২০২০:

বিকেএমইএ তার সদস্যদের উদ্দেশ্যে যে বিশেষ নির্দেশনা জারী করে তাতে বলা হয় ৪ এপ্রিলের পর কারখানা পরিচালনা করবেন কিনা তা একান্তই মালিকদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত

৪ এপ্রিল ২০২০:

কার্যত লকডাউন পরিস্থিতির মধ্যেই দলে দলে গার্মেন্টস শ্রমিকেরা ঢাকার আশেপাশের ও দূরবর্তী জেলাগুলো থেকে দীর্ঘপথ পায়ে হেঁটে, অটোরিকশা ও ভ্যানে করে অমানুষিক কষ্ট করে ঢাকা এসে পৌঁছান। কারণ তাদের বলা হয়েছিল ফ্যাক্টরি খুলবে এবং তাদের বেতন দেয়া হবে। যে করোনার উদ্বেগ থেকে বাঁচতে তারা শহরের ঘিঞ্জি পরিবেশ ছেড়ে তাদের গ্রামে গিয়ে উঠেছিলেন সেই ঘিঞ্জি, অস্বাস্থ্যকর ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশেই তাদের আবার ফেরত আসতে হল। এবং তাদের এই দলে দলে আসতে বাধ্য হওয়ার খবর দেখে যখন সারাদেশে তুমুল সমালোচনা হল একমাত্র তখনই ঢাকা পুরোপুরি লকডাউন করে দেয়া হল। ফলে তারা শহরে আটকা পড়েন।

৪ এপ্রিল ২০২০:

সব পোশাক শ্রমিককে মার্চ মাসের বেতন দেয়া হবে বলে জানিয়েছে তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। সংগঠনের সভাপতি ড. রুবানা হক বলেন, সব পোশাক শ্রমিককে মার্চ মাসের বেতন দেয়া হবে। এ নিয়ে কোনো অনীহা, অনাগ্রহের অবকাশ নেই। যত কষ্ট হোক শ্রমিকদের মার্চ মাসের বেতন দেয়া হবেই। (যুগান্তর, ৪ এপ্রিল ২০২০)

সংগৃহিত

৪ এপ্রিল ২০২০:

৪ তারিখ রাতে শ্রমিকদের ঢাকা আসতে বাধ্য করে এরপর সমালোচনার মুখে বিজিএমইএ যথারীতি কোন নির্দেশ না দিয়ে নতুন করে ১১ তারিখ পর্যন্ত ফ্যাক্টরি বন্ধ রাখার অনুরোধ জানায় আবারো। রাত ১২টায় কারখানা বন্ধের সিদ্ধান্ত জানায় বিকেএমইএ।

৫ এপ্রিল ২০২০:

প্রধানমন্ত্রী নতুন করে মোট ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজটি ঘোষনা করেন।

৫ এপ্রিল ২০২০:

ভালুকায় একটি গার্মেন্ট কারখানাতে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদ ও বেতনের দাবিতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে শ্রমিকরা বিক্ষোভ করতে গেলে মালিকপক্ষের হামলা ও ধাওয়ায় মহাসড়ক পার হয়ে পালানোর সময় ট্রাকের চাপায় দুই শ্রমিক নিহত হন। ওই ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্যসহ কমপক্ষে ২৫ জন আহত হয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, বিগত ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত কারখানা শর্তসাপেক্ষে ছুটি দেওয়ার পরও একটি কারখানায় শ্রমিকদের দিয়ে কাজ করানো হয়। রবিবার ওই সময় কাজে যোগদান না করায় পাঁচ শতাধিক শ্রমিককে মিল কর্তৃপক্ষ ছাঁটাই করে। (দেশ রূপান্তর, ৬ এপ্রিল ২০২০)।

৫ এপ্রিল ২০২০

১৪ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষনা সরকারের। জরুরি প্রয়োজনে অফিস খোলা রাখা যাবে জানিয়ে ছুটির আদেশে বলা হয়েছে, প্রয়োজনে রফতানিমুখী শিল্প কারখানা চালু রাখা যাবে (যুগান্তর, ৫ এপ্রিল ২০২০, অনলাইন সংস্করণ)।

৬ এপ্রিল ২০২০

বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর পক্ষ থেকে জানানো হয় যে  ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত কারখানা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে রফতানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো, যাদের জরুরি রফতানি কার্যাদেশ রয়েছে ও যেসব প্রতিষ্ঠান পিপিই, মাস্ক ইত্যাদি তৈরি করছে, সেসব প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনে খোলা রাখতে পারবে। তবে সেক্ষেত্রে নিজ নিজ অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ/বিকেএমইএ), কল-কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর এবং শিল্প পুলিশকে অবহিত করতে হবে। এছাড়াও ১৬ এপ্রিলের মধ্যে শ্রমিক-কর্মচারীদের মার্চের বেতন পরিশোধ করার জন্য অনুরোধ করা হয় (বণিক বার্তা, ৭ এপ্রিল ২০২০)।

১০ এপ্রিল ২০২০

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারী করে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষনা করে। সেখানে যথারীতি বলা হয় যে প্রয়োজনে রপ্তানীমুখী শিল্প কারখানা চালু রাখা যাবে (প্রজ্ঞাপন নং ০৫.০০.০০০০.১৭৩.০৮.০১৪.০৭-৭৮)

১০ এপ্রিল ২০২০

গণমাধ্যমে প্রেস বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর পক্ষ থেকে বলা হয় যে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সাধারণ ছুটির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিজিএমইএ এবং বিকেএমইএ’র সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো আগামী ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে (যুগান্তর, ১০ এপ্রিল ২০২০, অনলাইন সংস্করণ)।

১৩ এপ্রিল ২০২০

শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান হুশিয়ারি দিয়ে কারাখানা মালিকদের উদ্দেশে বলেন যে ১৬ এপ্রিলের মধ্যে শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করতে হবে। ওই তারিখের মধ্যে বেতন দিতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট মালিকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। (যুগান্তর, ১৮ এপ্রিল ২০২০)

১৪ এপ্রিল ২০২০

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, ১৬ এপ্রিলের মধ্যে কোনো কারখানা শ্রমিক-কর্মচারিদের বেতন পরিশোধ না করলে ব্যবস্থা নেবে সরকার। (ইনকিলাব, ১৮ এপ্রিল ২০২০)

১৫ এপ্রিল ২০২০

২৬ এপ্রিল থেকে কারখানা খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বিজিএমইএ। এজন্য ১৫ এপ্রিল “কারাখানা পরিচালনা এবং বেতন-ভাতা প্রদানের উদ্দেশ্যে” ঢাকার বাহিরের বিভিন্ন জেলা থেকে শ্রমিক আনার জন্য বিআরটিসির কাছে বাস বরাদ্দ চেয়ে বিজিএমইএ চিঠি প্রদান করে। এটা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়।

১৫ এপ্রিল ২০২০

২০ এপ্রিলের মধ্যে সব পোশাক শ্রমিকদের বেতন দেয়া হবে, কোনো শ্রমিক বেতনবঞ্চিত থাকবে না বলে জানায় বিজিএমইএ। একই সঙ্গে সংগঠনটি জানায় যে তারা যে কোনো ধরনের বেআইনি শ্রমিক ছাঁটাইয়ের বিরুদ্ধে। যেসব কারখানা শ্রম আইন অনুযায়ী লে-অফ ঘোষণা করেছে অথবা করবে, তাদের শ্রমিকের লে-অফের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। সাংবাদিকদের বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হক বলেন, বুধবার পর্যন্ত বিজিএমইএর সদস্যভুক্ত কারখানার ২৪ লাখ ৭২ হাজার শ্রমিকের মধ্যে ১৯ লাখ ১৯ হাজার ৬০০ শ্রমিকের বেতন দেয়া হয়েছে, যা শতকরা ৭৮ ভাগের কাছাকাছি। বৃহস্পতিবারের মধ্যে ৮০ ভাগের বেতন হয়ে যাবে আশা করছি। বাকি যারা থাকবেন তাদের বেতন আগামী ২০ এপ্রিলের মধ্যে দেয়ার চেষ্টা করব। ছোট-মাঝারিদের কিছু সমস্যা আছে, তাদের বেতন দিতে দেরি হতে পারে। যদি তাদের সমস্যা হয়, তাহলে সাহায্য করা হবে। (যুগান্তর, ১৫ এপ্রিল ২০২০, অনলাইন সংস্করণ)

সংগৃহিত

১৫ এপ্রিল ২০২০

করোনা ভাইরাসের কারণে সকল বন্ধ থাকা গার্মেন্ট কারখানাকে লে-অফ ঘোষনার অনুরোধ জানিয়ে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরকে বিজিএমইএর চিঠি প্রদান।(চিঠি স্মারক নং বিজিএ/এডমিন/২০২০/৩৯০৫, ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

১৬ এপ্রিল ২০২০

সমগ্র বাংলাদেশকে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে ঘোষনা করে সরকার।

১৬ এপ্রিল ২০২০

মজুরি না পেয়ে রাজধানীর পাশাপাশি সাভার-আশুলিয়া, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম এবং ময়মনসিংহে ৫০টির বেশি পোশাক ও বস্ত্র কারখানার শ্রমিকেরাও বৃহস্পতিবার বিক্ষোভ করেন। বিভিন্ন মহাসড়ক অবরোধের ঘটনাও ঘটেছে। (প্রথম আলো, ১৬ এপ্রিল ২০২০)

১৬ এপ্রিল

চট্টগ্রাম থেকে বাড়ি ফিরতি কয়েকশত পোশাক শ্রমিক খাগড়াছড়ি সীমান্তে আটকে পড়েছে। ফটিকছড়ির নোয়াবাজার দিয়ে খাগড়াছড়ি প্রবেশরত শ্রমিকদের স্রোতকে আটকিয়ে দিয়েছে পুলিশ ও আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী। গত কয়েকদিন ধরে খাগড়াছড়ি জেলার মধ্য দিয়ে বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষের অভিগমনকে করোনা সংক্রমণের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে ইতোমধ্যেই খাগড়াছড়ি জেলায় সকল প্রকার মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে জেলা প্রশাসন। সেই সূত্র ধরে আজ বৃহষ্পতিবার খাগড়াছড়ি প্রবেশরত শ্রমিকদের আটকিয়ে দিয়েছে স্থানীয় আইনরক্ষাকারী বাহিনী।আটকেপড়া বাড়ি ফিরতি মানুষ প্রতিবাদ জানালে পুলিশ সেখানে লাটিচার্জ করেছে বলে জানা গেছে। এতে সুমিতা দেওয়ান ও রিতা চাকমা নামে দুইজন আদিবাসী নারী আহত হয়েছে বলেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমে জানা গেছে। (আইপিনিউজবিজি, ১৬ এপ্রিল ২০২০)

১৭ এপ্রিল ২০২০

২৬ এপ্রিল থেকে কারখানা খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে বিজিএমইএর সভাপতি রুবানা হক গণমাধ্যম কর্মীদের নিশ্চিত করে বলেন, আমরা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত বদলিয়েছি। আমরা শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। আগামী ২৬ এপ্রিল কারখানা খোলা হবে না। আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। (ইনকিলাব, ১৮ এপ্রিল ২০২০)

১৮ এপ্রিল ২০২০

সরকারের হুশিয়ারির পরও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ৩৭০টি কারখানার মালিক তাদের শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করেননি বলে জানায় কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতর। (যুগান্তর, ১৮ এপ্রিল ২০২০, অনলাইন সংস্করণ)

২০ এপ্রিল ২০২০

কয়েকটি জেলার জেলা প্রশাসকের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানান যে রমজানে সবকিছু বন্ধ রাখা যাবেনা। সীমিত আকারে ইন্ডাস্ট্রি চালু করা যাবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘কিছু কিছু গার্মেন্ট কারখানার পণ্য রফতানির জন্য খোলা রাখতে হবে। এটাও ঠিক সামনে রোজা সবাইকে একেবারে বন্ধ করে রাখতে পারবো না। আস্তে আস্তে কিছু কিছু জায়গায় উন্মুক্ত করতে হবে।’ প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে গার্মেন্ট মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করার পরার্মশ দেন

লকডাউন নিশ্চিত করতে গিয়ে গাজীপুর জেলা নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে উল্লেখ করে জেলার পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার বলেন, ‘যে কারখানাগুলো খোলা রয়েছে তারা কোনোরকম স্বাস্থ্যবিধি মানছে না। চাকরি টিকিয়ে রাখতে মেয়েরা একহাতে কোলের বাচ্চা নিয়ে আরেক হাতে ব্যাগ নিয়ে আসছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধের মধ্যে গার্মেন্ট শ্রমিক আসায় গাজীপুর বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়েছে এমনটা জানিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, ‘প্রথমদিকে গাজীপুরের অবস্থা অনেক ভালো ছিল। হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করে আমরা অনেক ভালো রেখেছিলাম। কিন্তু দ্বিতীয়বার গার্মেন্ট খুলে দেওয়ার পর শ্রমিকরা আসতে শুরু করলো তখন নারায়ণগঞ্জের একটি কারখানায় ২৫ জন করোনা শনাক্ত হলো। আমাদের জেলাটিও এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে। আবার যদি শ্রমিকরা এভাবে আসা-যাওয়া করেন তাহলে বেগ পেতে হবে।’ প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘গাজীপুরে যারা ফ্যাক্টরিতে কাজ করছেন তাদের নিরাপদ রাখতে সুনির্দিষ্টভাবে আপনার দিক নির্দেশনা প্রয়োজন। আর গাজীপুরে অনেক ভাসমান মানুষ রয়েছেন। তাদের ঘরে রাখতে হলে অবশ্যই ত্রাণ সঠিকভাবে বিতরণ করতে হবে।’

জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেসব মালিকেরা কারখানা খুলতে চান, তারা স্বাস্থ্য নির্দেশিকা মেনে কীভাবে শ্রমিকদের সুরক্ষা দেবেন তা আলোচনা করে ঠিক করতে পারেন। কারখানার মধ্যে কোনও ফাঁকা জায়গা থাকে সেখানে যদি তাদের থাকার ব্যবস্থা করা যায়। যেখানে তারা সম্পূর্ণভাবে সুরক্ষিত হবে। প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব জায়গা যেখানে আছে তারাও সেখানে সেই ব্যবস্থা করতে পারে। গাজীপুরে করোনা প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পেয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘গাজীপুরে এই রোগের প্রাদুর্ভাবটা খুব বেশি দেখা দিচ্ছে। আপনাদের চিন্তা করতে হবে ২৪ বা ২৫ তারিখে চালু করা ঠিক হবে কিনা। এটা বুঝে নিয়েই শিল্প খোলার কথা বা সুরক্ষার কথা ভাবতে হবে। তবে বলবো না যে একদম বন্ধ থাকুক সীমিত আকারে সেই পরিমাণ শ্রমিক আসতে হবে। তারা সেভাবে চালু করতে পারবে। মালিকদের সঙ্গে কথা বলে এটা ঠিক করতে হবে।’

আগেরবার হঠাৎ করে শ্রমিক আনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গতবার হঠাৎ সুপারভাইজারদের দিয়ে শ্রমিকদের দিকে নিয়ে আসলো। পরের দিনই বলেছিল চলে যাও- এটা হয়নি। এই আসা-যাওয়ায় শ্রমিকরা যে কষ্টটা পেয়েছে। যোগাযোগের সব বন্ধ, মাইলের পর মাইল হেঁটে হেঁটে এই মেয়েরা পৌঁছাইছে। এভাবে যেন আর তাদের বিড়ম্বনায় না পড়তে হয়’ (ইত্তেফাক, ২০ এপ্রিল ২০২০, অনলাইন ডেস্ক)।

২২ এপ্রিল ২০২০

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব আহমেদ কায়কাউসের সভাপতিত্বে সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি ও সংসদ সদস্য শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, বিকেএমইএ সভাপতি সেলিম ওসমান, সিনিয়র সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী, আনোয়ারুল আলম চৌধুরী পারভেজ, বর্তমান সভাপতি ড. রুবানা হক, বিটিএমএ সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন প্রমুখের সাথে বৈঠকে বসেন মন্ত্রিপরিষদসচিব, অর্থসচিব ও শ্রমসচিব। সভায় করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য কারখানা চালু রাখার ব্যাপারে খাতসংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে দ্রুত রূপরেখা চাওয়া হয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে। বৈঠক সূত্র জানায়, কারখানা খোলার ইস্যু ছাড়াও লে অফ (সাময়িক বন্ধ) হওয়া কারখানা মালিকরা সরকারের প্রণোদনার অর্থ পাওয়া, বন্ধ থাকার সময়ে গ্যাস-বিদ্যুৎসহ পরিষেবার বিল জরিমানা ছাড়া পরবর্তীতে পরিশোধসহ বেশ কিছু বিষয়ে আলোচনা হয়। সম্প্রতি লে অফ হওয়া কারখানা মালিকরা সরকারের প্রণোদনার অর্থ পাবেন না বলে মন্ত্রণালয় এক আদেশ জারি করেছে। আহমেদ কায়কাউস এদিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সরকার কোনো বিশেষ কমিটি বা টাস্কফোর্স নয়। এ ছাড়া বেসরকারি খাতের ওপর সরকারের খবরদারিরও কোনো ইচ্ছে নেই। প্রণোদনার টাকা কিভাবে পাবে সে সিদ্ধান্ত নেবে বাংলাদেশ ব্যাংক। লে অফ ঘোষণা করা কোনো কারখানা প্রণোদনা পাবে কি না সে বিষয়টিও নির্ধারণ করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। আর কারখানা খোলা বা বন্ধ রাখার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে খাতসংশ্লিষ্টরা।’

বৈঠকে উপস্থিত এক ব্যবসায়ী নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘সভায় লে অফ হওয়া কারখানা শ্রমিকদের দেওয়া মজুরির অর্থ (প্রায় ৬০ শতাংশ) পাওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক মত এসেছে। এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় আরেকটি সংশোধিত আদেশ জারি করতে পারে। জরিমানা ছাড়া পরিষেবার বিল পরবর্তীতে পরিশোধের বিষয়েও সরকার ইতিবাচক।’

শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পোশাক খাতের বর্তমান পরিস্থিতি কিভাবে মোকাবেলা করা যায় সে বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। দেশের অর্থনীতি এগিয়ে নেওয়ার জন্য পোশাক কারখানাগুলো কিভাবে খোলা যায় সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে শিগগিরই মতামত দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বলা হয়েছে। আমরা এখনই কারখানা খোলার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেইনি।’ (কালের কন্ঠ, ২৩ এপ্রিল ২০২০)

২২ এপ্রিল ২০২০

চট্টগ্রামে ৪৬ পোশাক কারখানা লে-অফ ঘোষণা করা হয়েছে বলে খবর প্রকাশিত (যুগান্তর, ২২ এপ্রিল ২০২০, প্রিন্ট সংস্করণ)

২৩ এপ্রিল ২০২০

সাধারণ ছুটির মেয়াদ ৫ মে পর্যন্ত বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারী করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। কিন্তু ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয় যে শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করে সকল কারখানা খোলা রাখা যাবে (প্রজ্ঞাপন নং ০৫.০০.০০০০.১৭৩.০৮.০১৪.০৭-৮০)।

২৩ এপ্রিল ২০২০

এইদিন খবর প্রকাশিত হয় যে বিজিএমইএ থেকে বলা হচ্ছে, রফতানির জন্য ইউডি (ইউটিলাইজেশন ডিক্লারেশন) নেন এমন গার্মেন্টের সংখ্যা হচ্ছে ২ হাজার ২৭৪টি। এতে কাজ করেন ২৪ লাখ ৭২ হাজার ৪১৭ জন শ্রমিক। যদিও বিজিএমইএ’র ভোটার লিস্ট অনুযায়ী সাড়ে ৪ হাজারের বেশি গার্মেন্ট সংগঠনটির সদস্য। অবশ্য দেশে কতগুলো তৈরি পোশাক কারখানা রয়েছে এবং সেখানে কত শ্রমিক কাজ করে তার হালনাগাদ তথ্য নেই কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতরের কাছেও। এ অধিদফতরের যুগ্ম মহাপরিদর্শক শামসুল আলম খান বুধবার যুগান্তরকে বলেন, ‘কারখানার শ্রমিকদের তথ্য হালনাগাদ করা হচ্ছে। পরে তা ওয়েবসাইটে আপলোড করা হবে।’ (যুগান্তর, ২৩ এপ্রিল ২০২০, প্রিন্ট সংস্করণ)

২৩ এপ্রিল ২০২০

চলমান করোনা সংকটের মধ্যেই দেশের ৫৫টি পোশাক কারখানায় ২৫ হাজার শ্রমিক ছাঁটাই করা হয়েছে। যে সব পোশাক শ্রমিকের চাকরির বয়স ১ বছর জোরপূর্বক তাদের চাকরি থেকে না করে দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত ভার্চুয়াল এক আলোচনা অনুষ্ঠানে এসব অভিযোগ জানান শ্রমিক নেতারা। সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। (আরটিভি অনলাইন, ২৩ এপ্রিল ২০২০)।

২ মাসের বকেয়া বেতনের দাবিতে মোহাম্মদপুরের আদাবর থানার সামনে শ্রমিকরা করোনা পরিস্থিতি উপেক্ষা করেই ক্ষুধার জ্বালায় আন্দোলন শুরু করে; ২৪ এপ্রিল, ২০২০; মোহাম্মদপুর, ঢাকা। তাদের মালিকরা গত বেতন না দেয়াতে আজ তারা রাস্তায় নামে। আলোকচিত্র সাজ্জাদ হোসেন শুভ।

২৪ এপ্রিল ২০২০

রাতে বিজিএমইএর ওয়েবসাইটে সদস্যদের উদ্দেশে এক বার্তায় সংগঠনঠি জানায়, এখন পর্যন্ত গার্মেন্ট কারখানা খোলার কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি তারা। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, করোনা পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনীতি চাকা‌ চলমান রাখতে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় পোশাক কারখানা খোলা রাখার নির্দেশনা দেবে বিজিএমইএ। তবে সেই নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত যেসব শ্রমিক গ্রামে আছেন, তাদের ঢাকায় আসতে না বলার জন্য অনুরোধ করা হলো। (আমাদের সময়, ২৫ এপ্রিল ২০২০)

২৫ এপ্রিল ২০২০

বিজিএমইএ থেকে কারখানা খোলার কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি বলার পরও শ্রমিকদের ২৬ এপ্রিল থেকে কারখানায় আসার জন্য নির্দেশ দেন বেশ কয়েকজন কারখানা মালিক। এমন পরিস্থিতিতে বিভ্রান্তির মধ্যে পড়েছেন বিভিন্ন অঞ্চলের শ্রমিকরা। এরইমধ্যে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে ঢাকায় ফিরতে শুরু করছেন পোশাক শ্রমিকরা। শ্রমিকরা বলছেন, কারখানা থেকে তাদের ফোন দিয়ে আসতে বলা হয়েছে। তবে এ ব্যাপারে পোশাক কারখানার মালিকদের কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এদিকে শ্রমিকরা জানাচ্ছেন, তাদের অফিস করতে বলা হয়েছে, কারণ আগামীকাল রবিবার খুলছে পোশাক কারখানা। তাই বাধ্য হয়ে অঘোষিত লকডাউনের মধ্যে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে ঢাকায় ফিরতে শুরু করছেন পোশাক শ্রমিকরা (বাংলা ট্রিবিউন, ২৫ এপ্রিল ২০২০)।

২৫ এপ্রিল ২০২০

বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সরকার পোশাক কারখানা বন্ধ করতে বলেনি। সরকার স্বাস্থ্যবিধি মেনে পোশাক কারখানা খোলা রাখতে বলেছে। সে কারণে আমরা মনে করছি, একসঙ্গে সব চালাতে গেলে সমস্যা হবে, তাই আমরা ভাগ ভাগ করে কারখানা চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তিনি বলেন, আগামী ৪ মে থেকে দেশের সব কারখানা খোলা থাকবে। প্রাথমিকভাবে স্থানীয় শ্রমিক দিয়ে এসব কারখানা চালানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, আমরা যান চলাচল স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত গ্রাম-গঞ্জের কোনও শ্রমিক আনতেও নিষেধ করেছি। এ ব্যাপারে বিজিএমইএ মালিকদের চিঠি দেবে। সালাম মুর্শেদী আরও বলেন, ঢাকার বাইরের শ্রমিককে না আনার ব্যাপারে কঠোরভাবে বলা আছে। বিশেষ করে স্বাস্থ্য সুরক্ষা নীতিমালা মেনে আমরা কারখানা খুলতে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, আগামীকাল রবিবার থেকে শুধু ঢাকা শহরে ভেতরের ৮টি স্থানের কারখানাগুলো চালু হবে। ঢাকার ভেতরকার শ্রমিক দিয়েই এই কারখানা চালানো যাবে। এছাড়া ২৮ তারিখ থেকে খোলা হবে আশুলিয়া থেকে মানিকগঞ্জ পর্যন্ত সব কারখানা। নারায়ণগঞ্জসহ কাচপুর, রূপগঞ্জ এলাকার কারখানা চালু হবে ৩০ তারিখ থেকে। ২, ৩, ৪ মে টঙ্গী থেকে ময়মনসিংহ পর্যন্ত কারখানা চালু হবে (বাংলা ট্রিবিউন, ২৫ এপ্রিল ২০২০)।



Categories: আন্দোলন বার্তা

Tags: , , ,

2 replies

Trackbacks

  1. মারণখেলার টাইমলাইন: করোনায় “খরচযোগ্য” গার্মেন্ট শ্রমিক – ANTHROPOLOGY JOURNAL
  2. Why Local Context Matters in “Solving” Pandemics

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: