শক্ত খুঁটি

মানব জীবনকে যখন অগ্রাধিকার দেয়া হবে এবং যখন অর্থনৈতিক মন্থরতা, মন্দা ও আর্থিক ক্ষয়ক্ষতিকে সংক্রামক ব্যাধি থেকে মানুষের জীবন বাঁচানোর অপরিহার্য বিনিময় মূল্য হিসেবে গ্রহণ করা হবে — এই ভাবনাটা কি নতুন এক বৈশ্বিক মানবতাবাদ (প্ল্যানেটারি হিউম্যানিজম) নিয়ে স্বপ্ন দেখার রসদ যোগায়? করোনা মহামারীর পটভূমিতে এই প্রশ্নটিকে ঘিরে লিখেছেন পারসা সানজানা সাজিদ

প্লেগের অতীত-বর্তমান পাঠ, পড়ন্ত বিকেলে ঘরে ফেরা উড়ন্ত টিয়া পাখি (আমার অন্তত তাই মনে হয়েছিল), বসন্তে অঙ্কুরিত টিয়া পাখির মতো সবুজ পাতাগুলো এক ঝলক দেখে নেয়া, কিংবা পরিস্থিতি যতটুকু দাবি করে তার তুলনায় অপর্যাপ্ত হলেও সাহায্যের চেষ্টা ও সহায়ক হয়ে উঠার ফাঁকে আমিও ছকে বাধা ভাবনার জালে নিজেকে খুঁজে পেয়েছি এবং ভেবেছি “যখন এই আকাল কাটবে”। কিন্তু তার মানে এই নয় যে আমি সবকিছু আগের মতো “স্বাভাবিক” অবস্থায় ফিরে যাবার কথা বলছি, কারণ যখন সবকিছু স্বাভাবিক ছিল তখনও আমি ক্ষুব্ধ হতাম এই ভেবে যে কখন ঐ [স্বাভাবিক] অবস্থার অবসান হবে। সেই স্বাভাবিক অবস্থা-ই আমাদেরকে আজকের ক্রান্তিকালে ঠেলে দিয়েছে। তাই বর্তমান যা দাবি করছে তা হলো আগত সময়কে মোকাবিলা করবার সুচিন্তিত দিক নির্দেশনা। আর তা করার মানেই হচ্ছে যথাসম্ভব নির্ভীক, যত্নশীল ও সংকল্পবদ্ধ হয়ে বর্তমানকে মোকাবিলা করা, এমনকি অসাধ্যকেও সাধন করা।

প্রায় সারা বিশ্বই থমকে আছে, তাই এই অর্থহীন তুলনা করাটা সহজ, আমি এই ভাষ্যের নানান সংস্করণ দেখছি সর্বত্র — “এই সংকটে আমরা সবাই এক সাথে আছি”।  কিন্ত ভাইরাস বিধ্বস্ত এই সময়ে কোনকিছু যদি অধিকতর স্পষ্ট হয়ে থাকে তা হচ্ছে এই “আমরা” ও “সবাই” বর্গের মধ্যেকার বিভেদ, এখানে বিদ্যমান অসাম্য, অন্যায়-অবিচার আরও প্রবল রূপ ধারণ করেছে। জীবন, জীবিকা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার পথ ক্ষমতাহীনদের জন্য অধিকতর কন্টকাকীর্ণ। এই বিপর্যয় আবারও এমনই এক পুজিবাদী স্বাভাবিকতাকে নিশ্চিত করে যা দাঁড়িয়ে আছে মানবিক মর্যাদাকে প্রত্যাখ্যান করে; যা জনগণের মঙ্গলকে কখনোই অগ্রাধিকার দেয়নি এবং কখনো দিবে না। এই ব্যবস্থা বরং একের পর এক দুর্যোগ ডেকে আনছে।

এই ব্যবস্থার দম্ভের জায়গাগুলোর একটি হচ্ছে পছন্দসই বাছাইয়ের ভ্রম যখন আদতে আপনার পছন্দসই বাছাই করবার কোনো সুযোগ নেই কিংবা আপনাকে মিথ্যে পছন্দের ভাগাড় থেকে বাছাই করবার জন্য ঠেলে দেয়া হচ্ছে; যদি এমনকি মৌলিক প্রয়োজনগুলোর জন্য, অভুক্ত না থাকার জন্য অপশন হয় —  পেট বাঁচাবে না জান বাঁচাবে —  সেটি আদপে কোন পছন্দই নয়। ভারতে, বাংলাদেশে, ফিলিপাইনে, দিকদিগন্তে শ্রমিকেরা আহাজারি করে: “যদি আমরা ভাইরাসে নাও মরি, আমরা ক্ষুধায় মারা যাব।” ব্যাপারটা এমন নয় যে কাজ করার জন্য তারা নিজের জীবন ঝুঁকিতে ফেলতে চায়, কিন্তু তাদের সামনে আর কোনও পথ খোলা নেই। কক্সবাজার রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ঘনবসতিপূর্ণ ও স্যাঁতস্যাঁতে বাসস্থানগুলোর কথাই ধরুন কিংবা ঢাকায় উর্দুভাষীদের ক্যাম্পগুলো, এমনকি বিশ্বের সববৃহৎ এনজিও’র প্রধান কার্যালয়ের উল্টোদিকে গড়ে ওঠা ঢাকা শহরের বসতিগুলোর কথাই ধরুন, এইখানে সামাজিক দূরত্ব কল্পনাতীত। সাংবাদিকের সাথে আলাপ করার সময়ে, ঢাকা শহরের এমনই এক ক্যাম্পের বাসিন্দা বলছিলেন, উনারা যে কোয়ার্টারে থাকেন তা ঢাকা শহরের রাস্তার চেয়েও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ, রাস্তাগুলোতে অন্তত ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা যায়। অন্য এক বাসিন্দা যিনি তার পরিবারের অপর পাঁচ জনের সাথে একটা ঘরে থাকেন বলছিলেন, “আমরা এত অল্প জায়গা নিয়ে থাকি, এখানে যদি ভাইরাস ছড়ায় তাহলে দুর্ভিক্ষে পরিণত হবে” (ঢাকা ট্রিবিউন, এপ্রিল ১১, ২০২০)। এমনই সিস্টেম, জীবন বাঁচানো যার লক্ষ্য নয়। সম্প্রতি জার্নাল অব দ্য অ্যামেরিকান মেডিকেল এ্যাসোসিয়েশনে (এপ্রিল ১৫, ২০২০) প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্র ব্যাপারটিকে আরও স্পষ্টভাবে হাজির করেছে,

“কোভিড-১৯ সংক্রমণ হ্রাসের সবচেয়ে কার্যকর কৌশল হচ্ছে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা, কিন্তু দুরূহ চ্যালেঞ্জটা এইখানেই। বাসা থেকে অফিস কিংবা টেলিযোগাযোগের মাধ্যমে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা কিংবা চাকরি থেকে সাময়িক ছুটি নিয়ে ভার্চুয়াল সামাজিক ইভেন্টগুলোতে মগ্ন হতে পারা বিশেষ সুবিধাভোগীদের ব্যাপার-স্যাপার। বেশিরভাগ মানুষই এই সকল বিশেষ সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত।”

স্বাস্থ্য বনাম অর্থনীতি সংক্রান্ত যে বিতর্ক চলছে তাতে এটা আরও স্পষ্ট যে চলমান মহামারী এইসব অন্যায় বিভাজনগুলোকে বিবর্ধিত ও তীব্রতর করেছে, “এই সংকটে আমরা সবাই এক সাথে আছি”, এই বক্তব্যের প্রত্যেকটি অক্ষরকে রাজকীয় “আমরা” প্রত্যয়ের মতো ফাঁপা প্রতীয়মান করেছে। এই বিভেদের বার্তাকে গানের দল সমগীতের গীতিকার অমল আকাশ অনুমোদন করেননি, “ঘরে থাকো, ঘরে থাকো, ঘরটা যে কই?/এখনও সে পথে পথে করে টই টই/কবে কোন ভাগাড়ে সে জন্মেছিল/ কে যে এনে ফুটপাথে ঠেলে ফেলে দিল/তার ঘর ফুটওভার, ইস্টিশানে/ফিরবে সে কোন্ ঘরে, ঘরের কী মানে?” তারপর পরিপ্রেক্ষিত পরিবর্তন করে বলছেন, “আমাদের ঘরে আছে মজুদ খাবার/ অঢেল সময় আছে ওসব ভাবার/ আপাতত বসে থাকো ঘরের কোণে/ দিন যাক মৃতদের সংখ্যা গুনে”।

শাটডাউন যদি মানুষের জান বাঁচানোর জন্যই আরোপিত হয় এবং তা যদি কার্যকর হয়েই থাকে, তাহলে তা একইসাথে এই সত্যও উন্মোচন করেছে যে, বিশ্বব্যাপী পক্ষপাতদুষ্ট, মুনাফা কেন্দ্রীক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাগুলোর কাছে মানুষের জীবন উছিলামাত্র, এবং আর্থিক বিনিয়োগ-বরাদ্দের অভাবে এই ব্যবস্থা চিকিৎসাধীন ব্যক্তিবর্গের (রোগীদের) কিংবা স্বাস্থ্য সেবায় নিয়োজিত মানুষের ভার লাঘব করতে অক্ষম। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে “আফ্রিকান-আমেরিকান বংশোদ্ভুত কিংবা কৃষ্ণাঙ্গ মানুষরা অধিকতর হারে সার্স-কোভিড-২ ভাইরাসে সংক্রমিত হচ্ছেন এবং তাদের মৃত্যুর সম্ভাবনা বেশী” (জেএএমএ, এপ্রিল ১৫, ২০২০)।  কোভিড-১৯ সংক্রমণ পরীক্ষার হার সারা বিশ্বের তুলনায় বাংলাদেশে উল্ল্যেখযোগ্যভাবে কম। এই লেখা যখন লিখছি তখন দিনে প্রতি মিলিয়নে ১০৩টি করে নমুনা পরীক্ষা হচ্ছিল (ঢাকা ট্রিবিউন, এপ্রিল ১৬, ২০২০)। প্রাক-করোনাকালের স্বাভাবিকতায় একটি বৈষম্যমূলক কাঠামোতে জীবনের স্তরবিন্যাস করা হয়েছিল এবং [এই বিন্যাসে] কোন জীবনকে কখন কোথায় অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছিল সেটা আজকের সংকটকালে দিবালোকের মতন পরিষ্কার হল।

কোভিড-১৯ সংক্রমণ হ্রাসের সবচেয়ে কার্যকর কৌশল হচ্ছে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা, কিন্তু দুরূহ চ্যালেঞ্জটা এইখানেই। বাসা থেকে অফিস কিংবা টেলিযোগাযোগের মাধ্যমে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা কিংবা চাকরি থেকে সাময়িক ছুটি নিয়ে ভার্চুয়াল সামাজিক ইভেন্টগুলোতে মগ্ন হতে পারা বিশেষ সুবিধাভোগীদের ব্যাপার-স্যাপার। বেশিরভাগ মানুষই এই সকল বিশেষ সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত।

এমন ঘরবন্দি সময়ে কৃতজ্ঞতা, সংহতি ও সামষ্টিক সক্রিয়তার নূন্যতম প্রকাশ হিসেবে মানুষজন তাদের দোরগোড়ায় দাড়িয়ে বা জানালা থেকে উঁকি মেরে স্বাস্থ্য সেবায় ও অপরাপর অপরিহার্য সেবায় নিয়োজিত কর্মীদের হাততালি দিয়ে অভিবাদন জানাচ্ছেন, আমার মনে হয়েছে, ভালোই  তো। কিন্তু ভালো কথাটাই শেষ কথা নয়। আত্মতুষ্টি, এই প্রতীকী হাততালি আদৌ মানুষের জীবনের বস্তুগত পরিবর্তনের সংগ্রামকে প্রতিস্থাপন করতে পারে না; কেন জঘন্য শর্তাবলী মেনে কাউকে চাকরি কিংবা চুক্তি গ্রহণ করতে বাধ্য করা হবে অন্যথা বেকারত্ব ও অনিশ্চিয়তাকে ভাগ্য হিসেবে মেনে নিতে হবে? সমাজ নিজের ব্যার্থতাকে ঢাকার জন্য, ত্যাগের ধারণাকে স্বাভাবিক ও মহিমান্বিত করার জন্য নায়ক-মহানায়ক তৈরি করে কিন্তু সাধারণ মানুষকে কেন টিকে থাকার জন্য ঝুঁকি ও মৃত্যুর সাথে সখ্যতা করতে হবে, নয়ত আয়-উপার্জনের জন্য ধুঁকে ধুঁকে মরতে হবে। স্বাস্থ্যসেবা, বাসস্থান, শিক্ষা, পানি-বিদ্যুৎ-গ্যাস, সামাজিক-নিরাপত্তা-বলয় এইগুলো মর্যাদাপূর্ণ জীবনের অপরিহার্য পূবশর্ত যা আমরা মুনাফার জন্য বিসর্জন দিতে পারি না, তবে মুনাফাকেন্দ্রিকতা, বিশেষ করে এই অপরিহার্য সেবাগুলোর বন্টন ব্যবস্থায় মুনাফাকেন্দ্রিকতা একটি মহামারীপূর্ব বাস্তবতা এবং সেই বাস্তবতায় ফিরে যাওয়া হবে ধ্বংসাত্মক।

তারপর আছে অর্থনীতি, অনেকটা বাইবেলীয় তাৎপর্যে ঢেকে রাখা, এমন রহস্যের আভরণে আবৃত যে প্রকৃত রূপ চেনা কঠিন, এর সেক্যুলার প্রবণতাগুলো আরও গৎবাঁধা এবং অনেক ক্ষেত্রেই ভীতিসঞ্চারক। আমার আটপৌরে পর্যবেক্ষণকে মাফ করবেন, এই পুঁজিবাদী সংবহনতন্ত্রের বাইরে নই আমরা কেউ কিন্তু এই ব্যবস্থা দাঁড়িয়েই আছে বিচ্ছিন্নতা ও অভাব উৎপাদনের উপর ভিত্তি করে। মানুষ অর্থনীতির উপর নির্ভরশীল, তবে এই অর্থনীতি যে মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ করতে পারে না তা জলের মতন স্পস্ট। এ অর্থনীতি সচল রাখতে আমাদেরকেও অংশগ্রহণ করতে হয় যদিও এটি আমাদের জন্য দৈন্য-দুর্দশাই নিয়ে এসেছে, মর্যাদাপূর্ণ জীবনের অস্বীকৃতি এটির অন্তর্নিহিত বৈশিষ্ট্য। কাজ করলে স্বাস্থ্য হুমকির সম্মুঙ্খীন, কাজ না করলে ক্ষুধার ঝুঁকি। অনুচিত হওয়া সত্ত্বেও এই দ্বিমুখী-ঝুঁকিকে অনিবার্য হিসেবে নির্মাণ করা হয়েছে, এটি মানুষকে ক্রমাগত পেছনে ফেলে আসার প্রক্রিয়ায় অবজ্ঞা অবহেলা তৈরির কারখানা;  এমন এক চলমান প্রক্রিয়া যা ক্রমাগত “অযোগ্য” জনগোষ্ঠী তৈরি করে —  নাগরিকত্বের ঠিক নেই, দক্ষতার ঠিক নেই, দলিলাদি ঠিক নেই, জাতীয়তা, ধর্ম, বর্ণ ঠিক নেই, সঠিক মাত্রার সারল্য কিংবা উৎপাদনক্ষমতা নেই এবং তালিকা দীর্ঘ হতে থাকে। সিঙ্গাপুরের উদাহরণটাই দেখা যাক, সম্প্রতি সেখানে অভিবাসী শ্রমিকদের মধ্যে সংক্রমণ সবচেয়ে প্রবল আকার ধারণ করেছে, এই শ্রমিকদের অধিকাংশই ভারত ও বাংলাদেশ থেকে আগত (দ্য স্টার, এপ্রিল ১৫, ২০২০),

“অভিবাসী শ্রমিক, মূলত বাংলাদেশী ও ভারতীয় কায়িক শ্রমিক, যাদের শ্রমে এই চাকচিক্যময় আধুনিক শহর-রাষ্ট্র তৈরি হয়েছে তাদের আবাসস্থলগুলোর দিকে তাকালেই বোঝা যায় শ্রমিক এবং অপরাপর জনগোষ্ঠীর জীবনমান ভিন্ন। সংক্রমণ রোধকল্পে সিঙ্গাপুর সরকার তার দেশের বিদেশ ফেরত নাগরিকদের অভিজাত হোটেলে থাকার ব্যবস্থা করেছে। অনেক অভিবাসী শ্রমিকরা বলেন, তাদেরকে এমন অস্থায়ী খুপরীতে আটকে রাখা হয়েছে যেখানে অতি ব্যবহারে টয়লেটে পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা আটকে গেছে, ময়লাফেলার ঝুড়িগুলো উপচে পড়ছে।”

প্রাথমিক প্রশ্ন এটি নয় যে অথনীতির কি হবে কিংবা আমরা কিভাবে অথনীতিকে চাঙ্গা করব বরং জরুরী প্রশ্ন হল, আমরা কিভাবে একে অপরের  দেখভাল করব। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বৃহত্তর স্বার্থে সবাইকে ঘরে থাকার জন্য বারংবার জোরারোপ করেছেন কিন্তু একই কারণে [বৃহত্তর স্বার্থেই] সবাইকে ঘরে রাখা এত দুঃসাধ্য হয়ে উঠছে। এই অবকাঠামো যৌথতা ও বৃহত্তর স্বার্থকে অস্বীকার করে গড়ে উঠেছে, ফলে এই কাঠামো একই সঙ্গে জনকল্যাণ ও জনগণকে আনুকূল্য দিতে অক্ষম। সমস্ত প্রণোদনা ফুরিয়ে যাবে, ভর্তুকি দিতে দিতে ক্লান্ত হয়ে পড়বে, ঋণ দেয়া ও ঋণ মওকুফের খেলায় সামগ্রিক ঋণের বোঝা বাড়াবে। স্বাস্থ্য ও বাসস্থানের মতো আবশ্যিক সেবাগুলো তখনই সম্ভব যখন অভাব ও বিচ্ছিন্নতার নীতির উপর দাঁড়িয়ে থাকা মডেলের পরিবর্তে কমনসের ধারণাকে চিন্তায় জায়গা দেয়া হবে, সর্বসাধারণের অস্তিত্বকে সম্ভব করে তোলার শর্তাদি নিশ্চিত করা হবে, জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। এবং সেই লক্ষ্যে সমষ্টিগতভাবে সক্রিয় ও সাংগঠনিকভাবে তৎপর হতে হবে, এক নতুন “আমরা”র উত্থান, আন্তঃদেশীয় বামপন্থী আন্দোলনগুলোর পুনরজ্জীবনকে সম্ভব করে তুলতে হবে যেখানে পুঁজির সূত্রকে দৈব প্রদত্ত মুক্তিপত্রের মতো গ্রহণ করা হবে না — “বর্তমানের খর্বিত আদর্শে মঙ্গলময় পৃথিবীর অস্তিত্ব নেই, বরং সেই সকল প্রক্রিয়ার মধ্যে [মঙ্গলময় পৃথিবীর বীজ] নিহিত যা এই বর্তমানের বিলুপ্তি ঘটাবে ” (ভইয়য়ুু, মার্চ ১৬, ২০২০)। 

গত আট বছর ধরে দেখা নেই এমন এক বন্ধুর সাথে কথা বলছিলাম, সে থাকে নিউ ইয়র্কে আর আমি ঢাকায়, আমি মনঃস্থির করেছি, “এই আকাল  কেটে গেলে আমি বন্ধুদের নিয়ে একটি কমিউনে বাস করতে চাই”, এবং অবশ্যই কোনও একটা শহরে, কারণ শহর এমন এক জায়গা যেখান থেকে আমি পালাতে শিখিনি।

এপ্রিল ২০, ২০২০
ঢাকা

পারস সানজানা সাজিদ একজন লেখক ও সম্পাদক। বাংলায় অনুবাদ করেছেন খোইরোম রুধির। লেখাটি ইংরেজীতে প্রথম প্রকাশিত হয় Goethe Institute -এর Reflection on a post-Corona time নামক একটি সিরিজের অংশ হিসেবে, মূল লেখার জন্য দেখুন, https://www.goethe.de/en/kul/ges/eu2/pco/dan/21864191.html; Copyright: Goethe-Institut e. V., online editorial office. লেখায় ব্যাবহৃত টেক্সটবক্সটি লেখকের মূল ইংরেজি হতে উদ্ধৃতি।



Categories: Opinion

Tags: , ,

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: